এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম

ঝামেলাহীন বিদেশ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ২২ জানুয়ারী ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। যার সুফল পেতে শুরু করছে বাংলাদেশ। আর ই-পাসপোর্টের একটি অন্যতম সুবিধা হচ্ছে পাসপোর্টের আবেদন পক্রিয়া। আপনি কোন প্রকার দালাল বা কাগজ সত্যায়নের ঝামেলা ছড়াই নিজে নিজেই যেকোন মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর আবেদন পক্রিয়াও যথেষ্ট সহজ। ই-পাসপোর্টের আবেদন পক্রিয়া সম্পর্কে জানতে এই পোস্টটি দেখুন : ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট আবেদন। আর ই-পাসপোর্টের আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে পাসপোর্ট আবেদন ফি পেমেন্ট। এই পোস্টে আমরা অফলাইন এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করব।

আরও পড়ুন : ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম :

এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম

ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই আবেদন ফি প্রদান করা যায়। অফলাইন পেমেন্ট মাধ্যম হচ্ছে এ চালান। অফলাইন পেমেন্ট হিসাবে সংজ্ঞাইত হলেও এটিও মূলত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম। এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার আপনে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেই ই-পাসপোর্টের আবেদন ফি প্রদান করতে পারবেন। এমনকি যাদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নেই তারা বিকাশ, রকেট, নগদের মত মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা আপনি সরাসরি যে কোন সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দেওয়ার মাধ্যমেও আবেদন ফি প্রদান করতে পারবেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম ধাপ :

অফলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন ফি প্রদান করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পূর্ন করতে হবে। তারপর ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার আপনার কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোনের যে কোন একটি ব্রাউজার ওপেন করে করুন। এবং তার এড্রেস বারে Department of
Immigration & Passports এর url "https://www.epassport.gov.bd/" টাইপ করুন। অথবা সরাসরি epassport লিখে গুগলে সার্চ করে উপরিউক্ত সাইটটি নির্বাচন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ :

তারপর Department of
Immigration & Passports এর হোম পেজের মেনু অপশন থেকে PASSPORT FEES বাটনে ক্লিক করুন। অথবা একটু নিচে Passport Fees ঘর থেকে Payment information and options -এ সরাসরি ক্লিক করুন।

তৃতীয় ধাপ :

এই পেজে পেমেন্ট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য দেওয়া থাকবে সেখানে 2.Offline : Can be paid at any Government or private Banks through A-Challan (For self payment click here) থেকে Click Here -এ ক্লিক করুন। এবার আপনাকে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের ওয়েব সাইটে ড্রাইভার্ট করা হবে।

চতুর্থ ধাপ :

অটোমেটেড চালান সিস্টেমের ওয়েব সাইটের হোম পেজ থেকে পাসপোর্ট - এ ক্লিক করে ই-পাসপোর্ট ফি সিলেক্ট করুন। তারপর "আবদনের প্রকৃতি" থেকে কত পাতার ই-পাসপোর্ট নিবেন সেটি সিলেক্ট করুন। এবং "বিতরনের প্রকৃতি" থেকে কত বছর মেয়াদি এবং কত কর্মদিবসে ডেলিভারি নিবেন সেটি নির্বাচন করুন। এরপর নিচে টাকার পরিমান ঠিক আছে কিনা দেখে OK বাটনে ক্লিক করে দিবেন।

আরও পড়ুন : ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে ই-পাসপোর্ট চেক করুন

পঞ্চম ধাপ :

পরের পেজের একটু নিচে "৩। যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থ জমা দেওয়া হচ্ছে" এর পাশে থাকা "ব্যক্তি" বাটনে ক্লিক করুন। এরপর নিচের ফর্মে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার, জন্ম তারিখ, ফোন নাম্বার, ইমেল এড্রেস (অপশনাল) দিয়ে Check NID বাটনে ক্লিক করুন। আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সিলেক্ট করে সে অনুসারে তথ্য দিয়ে Check বাটনে ক্লিক করবেন।

এরপর তারা আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কোন ই-পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছে কিনা সেটি ভেরিফাই করে পাশে পদর্শিত হবে। তারপর "৫। অর্থপরিশোদের ধরণ নির্বাচন" থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা কার্ড পেমেন্ট বা ব্যাংক কাউন্টার জমা নির্বাচন করুন। এরপর আপনার পছন্দ মত পেমেন্ট সিস্টেমটি করে সেভ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর আপনার নির্বাচন করা পেমেন্ট সিস্টেমের তথ্য চাওয়া হবে। যেমন বিকাশ সিলেক্ট করলে বিকাশ নাম্বার, পাসয়ার্ড ইত্যাদি। আর কার্ড সিলেক্ট করলে কার্ডের ইনফরমেশন চাইবে। সেই ইনফরমেশন গুলো দিয়ে দিলেই আপনার পেমেন্ট হয়ে যাবে।

ষষ্ঠ ধাপ :

সফল ভাবে পেমেন্ট সম্পূর্ন হওয়ার পর এখান থেকে আপনি আপনার এ-চালান কপিটি ডাউনলোড দিতে পারবেন। যদি কোন কারনে এখন থেকে এ-চালান কপি ডাউনলোড করতে সমস্যা হয় তাহলে পুনরায় তৃতীয় ধাপে ফেরত যাবেন এবং 2.Offline : Can be paid at any Government or private Banks through A-Chalan (For self payment click here) এর ঠিক পরের লাইনের Click Here -এ ক্লিক করুন।

তারপর নিচের "Automated Chalan Verification" অংশে চালান নাম্বার দিয়ে Verify বাটনে ক্লিক করলেই আপনার চালান কপিটি পেয়ে যাবে। এবং পুননায় যতবার ইচ্ছা ডাউনলোড করতে পারবেন। ভাবছে চালান নাম্বার কোথায় পাবেন? আপনার পেমেন্ট সম্পূর্ন হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ফোনে চালান নাম্বার প্রেরন করা হবে। এই ছিল অফলাইনে এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম।

শেষ কথা :

ই-পাসপোর্টের আবেদন, আবেদন ফি প্রদানকে অনেকেই খুব জটিল কাজ মনে করে। অবশ্য এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। সেটি হল ই-পাসপোর্টের এই বিষয় গুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা। কিন্তু উপরের আলোচনা থেকে দেখলেন কত সহজে ই-পাসপোর্টের আবেদন ফি প্রদান করা যায়। আর আশা করি এ চালান দিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার নিয়ম টি আমরা অতি সহজ ভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। ই-পাসপোর্ট রিলেটেড এমন সব গুরুত্বপূর্ন তথ্য পেতে আমাদের সাথেই যুক্ত থাকুন।

Previous Post